
বিশেষ প্রতিবেদক :শরীফ আহমেদ:
আগামী এয়োদশ জাতীয় সংসদে ১৭৮ নং আসন। রাজধানীর দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটারের এই আসনে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে শক্তভাবে লড়তে হচ্ছে তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তবে এই দুজনের বাইরে ভোটারদের কিছুটা আলোচনা আছেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখা মার্কায় ইব্রাহিম।
সরেজমিনে জানা যায়,দীর্ঘ ১৭ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারে আমলে তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকা-৫ আসনটাকে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে। কোথায় কোন উন্নয়ন করেনি। তাই স্হানীয় প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ছাপিয়ে ভোটারদের কণ্ঠে উঠে আসছে তাদের নিজস্ব সমস্যার কথা।
গ্যাস, পানি ও জলাবদ্ধতা সংকটের সমাধান চান ভোটাররা। তাদের দাবি, যিনি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন, তিনিই ভোট পাবেন। তবে কেউ কেউ বলছেন, বিএনপির প্রার্থী এই আসনে আগেও একবার নির্বাচন করেছেন এবং নবী উল্লাহ নবী এলাকার একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্ব। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী নতুন মুখ।
সে ক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থী নবী উল্লাহ নবী জনপ্রিয়তায় এগিয়ে রয়েছেন।
★সীমানা ও ভোটার★
ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকার এই আসনটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সমন্বয়ে গঠিত। এই আসনে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন। তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার রয়েছেন ৫ জন। সব মিলিয়ে মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন।
ঢাকা-০৫ প্রার্থী হয়ে যারা লড়ছেন★
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১১ জন প্রার্থী। তারা হলেন— বিএনপির দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী জননেতা আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী,গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার প্রার্থী সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে মার্কার প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের ছড়ি মার্কার প্রার্থী মো. তাইফুর রহমান রাহী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)-এর কাঁচি মার্কার প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. ইবরাহীম, এলডিপির ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মো. হুমায়ুন কবির, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী মীর আব্দুস সবুর, বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস মার্কার প্রার্থী মো. গোলাম আজম, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন, এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব মার্কার প্রার্থী মো. সাইফুল আলম।
★ভোটাররা যা বলছেন★
সামসুল হক খান স্কুল এলাকার স্হানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, বিএনপির নবী উল্লাহ নবী একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগেও ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন এবং নাগরিকদের সঙ্গে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও যোগাযোগ করেন।
সংকট। অথচ এই এলাকার ওপর দিয়েই সারা দেশের গ্যাসলাইন গেছে। গত ১৭ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা এই গ্যাস-পানি সমস্যা নিয়ে কিছুই করেনি। প্রায় ১২ লাখ মানুষের বসবাস এই এলাকায়। অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, মানুষ জলাবন্দী হয়ে পড়ে। বিএনপির নবনির্বাচিত যাত্রাবাড়ি থানার আহ্বায়ক ও ঢাকা-০৫ নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক জামশেদুর আলম শ্যামল বলেন,ইনশাআল্লাহ আমাদের নেতা আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী ভাই নির্বাচিত হলে জনগণের এই আকাঙ্ক্ষা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সরকার যদি আসনভিত্তিক চাহিদা অনুযায়ী বাজেট দেয়, তাহলে অবশ্যই নবী ভাই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন।
এদিকে বিএনপির দলীয় মনোনীত সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী জননেতা আলহাজ্ব নবী উল্লাহ নবী বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকার অন্যতম সমস্যা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পঁয়ঃনিষ্কাশন সংকট। এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। অপরিকল্পিত ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা যদি আগে দায়িত্ব পালন করতেন, তাহলে এই অব্যবস্থাপনা থাকতো না। মানুষের কষ্ট লাঘব করাই আমার প্রধান লক্ষ্য। আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা হুকুম ও ঢাকা-০৫ জনগণের ভালোবাসা দোয়া নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম আমার এলাকার জনদুর্ভোগ লাঘবের কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।