বিশেষ প্রতিবেদক : মোঃ ইব্রাহিম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় এক অটোচালক প্রতিবন্ধী যুবককে নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম মোঃ সোহেল (প্রায় ৪০)। তিনি সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর গ্রামের হবি রহমানের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিরেরটেক বাজার থেকে মুছারচর পাকা সড়কের মুছারচর গ্রামের অংশে, রাস্তার উত্তর পাশে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার সময় মোঃ সোহেল তার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। সন্ধ্যার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পরদিন ২০ জানুয়ারি সকালে মুছারচর গ্রামের পাকা রাস্তার পাশে পথচারীরা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। নিহত সোহেলের মুখ ও বুকে শক্ত কসটেপ পেঁচানো এবং মাথায় রক্তাক্ত জখম অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। হত্যার পর তার অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সোনারগাঁ থানা দিন তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মোঃ আব্দুল হক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। পরে মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। স্বজনদের দাবি, সোহেল শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় সে কোনোভাবেই অপরাধে জড়িত ছিল না। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, সড়কে অটোচালকদের নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার না করলে বড় ধরনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।