
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের ফনকুল এলাকার সাবেক হাকিম আলী মেম্বারের ছেলে কথিত দালাল সুমনের বিরুদ্ধে প্রবাসী মো. শাহাজুদ্দিন মিয়াকে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভালো চাকরি ও আকামা করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দালাল সুমন গত ১৯ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মো. শাহাজুদ্দিনকে সৌদি আরবে পাঠান। এ জন্য শাহাজুদ্দিনের পরিবার দালাল সুমনের হাতে ৬ লাখ টাকা তুলে দেন।
সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর শাহাজুদ্দিনকে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার। নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না এবং আকামা করে দেওয়ার কথা বলেও তা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের একপর্যায়ে শাহাজুদ্দিন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরে মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর তারিখ ২ জানুয়ারি ২০২৬ বলে পরিবার নিশ্চিত করেছে।
নিহত শাহাজুদ্দিনের স্ত্রী মরিয়ম অভিযোগ করে বলেন,আমার স্বামীকে ভালো চাকরি আর আকামা করে দেওয়ার কথা বলে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। ঠিকমতো খাবার পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। নির্যাতনের কারণেই সে স্ট্রোক করে মারা যায়। এখন লাশ দেশে এনে দেওয়ার কথা বলেও নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লাশ দেশে আনতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে মুছাপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়ার কাছে বিচার দেওয়ার কোনো গতি হচ্ছে না উল্টো আমরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছি এবং চাপের মধ্যে আছি।
নিহতের স্ত্রী মরিয়ম এ ঘটনায় দালাল সুমনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।